শিশু সুমা: রুগ্ণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার অসহায় বলি

1 month ago 9

সুমা যে বিভাগের ভর্তি হয়েছে, অধ্যাপক ড. সাঈদা আনোয়ার সেই বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব পেডিয়াট্রিকস) প্রধান। আইসিইউ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বেও তিনি। জানতে চাইলে তিনি টেলিফোনে শিশুটির মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন। বললেন, ২৮ দিনের বেশি বয়স হওয়ার কারণে নিওন্যাটাল আইসিইউতে তাকে ভর্তি করানো সম্ভব ছিল না। আর ছয় শয্যার আইসিইউর চারটিতে ভেন্টিলেটর আছে, দুটিতে নেই। এর একটিও সুমাকে দেওয়া সম্ভব ছিল কি না? অবহেলা ঘটেছে কি না? উত্তরে তিনি বলেন, আমি তো তাকে দেখিনি। তবে আইসিইউ পায়নি বলেই মারা গেছে, সেটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। হয়তো তার অবস্থা খারাপ ছিল।’ তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, খারাপ রোগীদেরও অনেক সময় তাঁরা ভর্তি করান। ঢাকা মেডিকেলে ২৮ দিনের বেশি বয়সের শিশুদের আইসিইউ সুবিধা প্রথম চালু হয় গত বছরের শেষার্ধে। তাঁর কথায়, এই মেয়েটির যদি শিশু কার্ডিওলজিস্টের দেখার দরকার পড়ত, তাহলে সেটা দেওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ, হাসপাতালে এই পদই নেই।

অধ্যাপক সৈয়দা আনোয়ার অবশ্য এ কথাও বলেন যে আইসিইউ পরিচালনার লোকবলেরও ঘাটতি আছে। ওই বিভাগে করোনা পজিটিভ পাওয়া এবং কোভিড বিভাগে লোকবল স্থানান্তরের কারণে এটা ঘটেছে।

তবে করোনা পজিটিভ হওয়ার কারণে আইসিইউ লকডাউন রাখার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা ভিন্নমত দিয়েছেন। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রিন্সিপাল, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার এবং হেড অব ইকুইপমেন্টস মেইনটেন্যান্স প্রকৌশলী মো. আবদুল হালিম সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ধরনের অবস্থায় আইসিইউ জীবাণুমুক্তকরণ (ফিউমিগেশন) করা দরকার পড়ে। আর সেটা একবার করলে দুই দিন এবং সন্দেহমুক্ত হতে চাইলে দ্বিতীয়বারে আরও দুই দিন, এই মোট চার দিন বন্ধ রাখলেই চলে।’

আইসিইউও কি মানুষ যে তাকেও ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে?

Read Entire Article