জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের শীর্ষ নেতা শেকাউ নিহত – দাবি আইএসের

নাইজেরিয়ারভিত্তিক ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের শীর্ষ নেতা আবুবাকার শেকাউ বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছে এর প্রতিপক্ষ জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। রোববার এক অডিও বার্তায় এই দাবি জানিয়েছে আইএস এর পশ্চিম আফ্রিকা শাখা ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি)।

অডিও বার্তায় আইএসডব্লিউএপি নেতা আবু মুসাব আল বারনাউই বলেন, ‘শনিবার নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামবিসা জঙ্গলে বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপি সদস্যদের মধ্যে সংঘাত হয়েছে; আবুবাকার শেকাউ সেখানে উপস্থিত ছিল। বেশ কয়েকজন বোকো হারাম সদস্য নিহতের পর তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছিল।’

‘কিন্তু আমাদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সে নিজের সঙ্গে থাকা বোমা বিস্ফোরণে আত্মহত্যা করেছে। আবুবাকার শেকাউ এখন অতীত। এই পৃথিবীতে অপমানিত হওয়ার পরিবর্তে নরকে অনন্তকাল অপমানিত হওয়াকেই বেছে নিয়েছে সে।’

নাইজেরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন – এমন একজন সাংবাদিক বিবিসিকে জানিয়েছেন, শনিবার সামবিসা জঙ্গলে বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপির সদস্যদের মধ্যে সত্যিই বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। তবে সংঘাতের সময় শেকাউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না কিংবা তিনি আত্মহত্যা করেছেন কি না – এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

বোকো হারাম এবং নাইজেরিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা দেশটির সরকারও এখন পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা স্বীকার করে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আবুবাকার শেকাউয়ের মৃত্যুর গুঞ্জন উঠল। সর্বশেষ গত মাসে তার মৃত্যুর খবর প্রচারিত হয়েছিল।

নাইজেরিয়া সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মেদ ইয়েরিয়মা তখন বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন, তবে এই তথ্যের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ তারা পাননি।

কে এই আবুবাকার শেকাউ

নাইজেরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আবুবাকার শেকাউয়ের বয়স ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। ২০০৯ সালে তিনি বোকো হারামের শীর্ষপদে আসীন হন, তার আগে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, শেকাউ শীর্ষ পদে আগ পর্যন্ত নাইজেরিয়ার একটি আন্ডারগ্রাউন্ড জঙ্গিগোষ্ঠী ছিল বোকো হারাম। শেকাউ দায়িত্ব নেওয়ার পর নাইজেরিয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও নিষ্ঠুর জঙ্গিগোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এটি।

শেকাউয়ের নেতৃত্বে নিয়মিত বোমা হামলা, অপহরণ, কারাগারে হামলা করে কয়েদিদের পলায়নে সহায়তা ইত্যাদির মাধ্যমে নাইজেরিয়ায় একরকম ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে সক্ষম হয় বোকো হারাম।

২০১২ সালে একটি ভিডিও লিংক প্রকাশ করে বোকো হারাম। সেখানে শেকাউকে বলতে শোনা যায়, ‘মানুষকে খুন করা আমি উপভোগ করি। মুরগি বা ভেড়া জবাই করে আমি যেমন আনন্দ পাই, মানুষ খুন করেও আমার একই অনুভূতি হয়।’

২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে সম্পর্কিত হয় বোকো হারাম; কিন্তু নাইজেরিয়ায় নিষ্ঠুর আচরণ ও অত্যাচারের জেরে ২০১৬ সালে এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে বাধ্য হয় আইএস। তারপর থেকেই নাইজেরিয়ায় এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বৈরীতা চলছে।

নাইজেরিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোকো হারামের হামলায় ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নাইজেরিয়ায় মারা গেছেন ৩ লাখেরও বেশি মানুষ এবং ঘরহারা বা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ কোটিরও বেশি।

আন্তর্জাতিকভাবে বোকো হারাম প্রথম মনযোগ কাড়তে সক্ষম হয় ২০১৪ সালে। ওই বছর নাইজেরিয়ার বোর্নো প্রদেশের শিবোক জেলার একটি স্কুল থেকে কয়েকশ ছাত্রীকে অপহরণ করেছিল এই গোষ্ঠী। যার প্রেক্ষিতে তখন নাইজেরিয়াজুড়ে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।

এই ঘটনার পরই শেকাউকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী (গ্লোবাল টেররিস্ট) আখ্যা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয় ৭০ লাখ ডলার।

নাইজেরিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে শিবোক জেলার ওই স্কুল থেযে যে ছাত্রীরা অপহৃত হয়েছিল, তাদের সবার খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।

Check Also

আফগানিস্তান করোনায় বিপর্যস্ত

করোনায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে আফগানিস্তানে। রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় একদিকে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর …

x
www.jagrotojanata.com want to
Show notifications for the latest News&Updates