শবে কদর ও কুরআন নাজিল

আজ ২৭ রোজার প্রস্তুতির তারাবিহতে হাফেজে কুরআনের মুখে শোনা যাবে- ‘ইন্না আংযালনাহু ফি লাইলাতিল কদর…। মুসলিম উম্মাহর জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া পাওয়া মর্যাদার রাত ‘লাইলাতুল কদর’। শবে কদর সংগঠিত হওয়ার রাতগুলোর মধ্যে আজ অন্যতম। ৩০তম পারা তেলাওয়াতের মাধ্যমে শেষ হবে ১৪৪২ হিজরির রমজান মাসের খতম তারাবিহ। আজকের তারাবিহতে সুরা নাবা থেকে শুরু করে সুরা নাস পর্যন্ত মোট ৩৭টি সুরা পড়া হবে। এর মধ্যে ৯৭নং সুরা হচ্ছে ‘সুরা আল-কদর’। এ সুরায় কুরআন নাজিলের বর্ণনার পাশাপাশি এ রাতের মর্যাদার বিষয়টি ওঠে এসেছে। লাইলাতুল কদরের রাতে ক্ষমা প্রার্থনায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ ঘোষণা রয়েছে। তাহলো-
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি যদি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)
সুরা নাবা : আয়াত ৪৯
মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরাটি কিয়ামতের ভয়াবহতা কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জাহান্নাম ও তার অধিবাসীদের অবস্থার বর্ণনার পাশাপাশি জান্নাতএবং তাঁর অধিবাসীদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। সর্বশেষে হাশরের ময়দানে অবিশ্বাসীদের আফসোস ও অনুশোচনার বর্ণনা ওঠে এসেছে।
এ সুরায় কেয়ামতের ভয়াবহ বর্ণনা অস্রুবিসর্জন দেবে মুমিন। আবার পরক্ষণেই জান্নাতের নেয়ামত লাভের কথায় মুমিনের হৃদয়ে আনন্দ ও খুশি বিরাজ করবে। ৩০তম পারায় কেয়ামতের আলোচনাই হয়েছে বেশি। কেয়ামতের ভয়বাহতা তুলে ধরেআল্লাহ তাআলা বলেন-
নিশ্চয় বিচার দিবস নির্ধারিত রয়েছে। যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে সমাগত হবে। আকাশ বিদীর্ণ হয়ে; তাতে বহু দরজা সৃষ্টি হবে।এবং পর্বতমালা চালিত হয়ে মরীচিকা হয়ে যাবে। নিশ্চয় জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে, সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে। তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে। তথায় তারা কোন শীতল এবং পানীয় আস্বাদন করবে না; কিন্তু ফুটন্ত পানি ও পূঁজ পাবে। পরিপূর্ণ প্রতিফল হিসেবে। নিশ্চয় তারা হিসাব-নিকাশ আশা করত না। ‘সুরা নাবা : আয়াত ১৭-২৭)
আবার মুমিন জান্নাতেদের নেয়ামত ও সুখ-শান্তির বর্ণনায় মুমিন মুসলমানের হৃদয়ে আনন্দের বন্যা বইবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য। উদ্যান, আঙ্গুর, সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী। এবং পূর্ণ পানপাত্র। তারা তথায় অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না। এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে যথোচিত দান।’ (সুরা নাবা : আয়াত ৩১-৩৬)
সুরা নাযিআত : আয়াত ৪৬
সুরা নাযিআত মক্কায় অবতীর্ণ। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা কিয়ামত অবশ্যই আসবে। এবং তা অতি সন্নিকটে। তাই আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে কিভাবে হককে বাতিলের বিজয়ী করবেন তা বর্ণনা করেছেন। উপমা স্বরূপ হজরত মুসা আলাইহিস সালাম কিভাবে ফেরাউনের ওপর বিজয় লাভ করেছিলেন এবং ফেরাউন ধ্বংস হয়েছিল তা ওঠে এসেছে এ সুরায়।
সুরা আবাসা : আয়াত ৪২
মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় দানের পদ্ধতি, উপদেশ গ্রহণ না করার প্রতি তিরস্কার, উপদেশ গ্রহণ থেকে বিমুখ ব্যক্তিদের পরলৌকিক শাস্তি এবং উপদেশ গ্রহণকারীদের পরকালীন জীবনের পুরস্কারের বর্ণনা করা হয়েছে।
সুরা তাকভীর : আয়াত ২৯
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা তাকভীরে কিয়ামতের দৃশ্যকে চিত্রায়ন করা হয়েছে। তাইতো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে বক্তি কিয়ামতের দৃশ্য নিজ চোখে দেখতে চায়, সে যেন সুরা তাকভীর এবং সুরা ইনশিকাক পাঠ করে।
সুরা ইনফিতার : আয়াত ১৯
এ সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এ সুরার মূল বিষয়বস্তু হলো পরকাল। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিনকে দেখতে চায়, সে যেন সুরা তাকভীর, ইনফিতার ও ইনশিকাক পাঠ করে।
সুরা মুতাফফিফিন : আয়াত ৩৬
মক্কায় নাজিল হওয়া সুরা মুতাফফিফিনে আল্লাহ তাআলা পরকালের বিষয় তুলে ধরেছেন। এ সুরায় ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রয়ের সময় বেশি গ্রহণ করে বিক্রয়ের সময় কম দেয়ার অনৈতিকতা তুলে ধরা হয়েছে। এ সুরার শেষে সৎ ও ভালো লোকদের সুখ-শান্তি আলোচনা করা হয়েছে। কাফেরদের ঠাট্টা-বিদ্রুপের জন্য তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে কাফেরদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।
সুরা ইনশিক্বাক্ব : আয়াত ২৫
মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায়ও কিয়ামতের চিত্রায়ন করা হয়েছে।
সুরা বুরুজ : আয়াত ২২
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা বুরুজে কাফেররা ঈমানদারের ওপর যে অত্যাচার নির্যাতন করেছিল তার নির্মম পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে এবং সে সঙ্গে মুসলমানদেরকে উত্তম প্রতিফলের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে।
সুরা ত্বারেক : আয়াত ১৭
সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় তাওহিদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং সর্বশেষ কাফেরদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা জ্ঞাত, যাতে তারা সফলতা লাভ করতে পারবে না, তার বিবরণ ওঠে এসেছে।
সুরা আলা : আয়াত ১৯
মক্কা অবতীর্ণ এ সুরায় তাওহিদের আলাচনা করার পাশাপাশি বিশ্বনবিকে উপদেশ প্রদান এবং পাপিষ্ঠ ও কাফেরদের অশুভ পরিণতি এবং ঈমানদারের পরকালীন সাফল্যের কথা ওঠে এসেছে।
সুরা গাশিয়া : আয়াত ২৬
২৬ আয়াত বিশিষ্ট মক্কী সুরায় তাওহিদ ও পরকালের আলোচনা করা হয়েছে।
সুরা ফজর : আয়াত ৩০
মক্কী সুরা আল ফজরে পরকালের শাস্তি এবং পুরস্কারের আলোচনা করা হয়েছে। কারণ মক্কার অবিশ্বাসীরা পরকালকে বিশ্বাসই করতো না।
সুরা বালাদ : আয়াত ২০
এ সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ প্রাথমিক প্রত্যাদেশ সমূহের অন্যতম। এ সুরায় মক্কা বিজয়ের সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী ও সৎকর্মের আলোচনা করা হয়েছে।
সুরা শামস : আয়াত ১৫
মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় নেকি ও বদ, পাপ ও পূণ্যের পার্থক্য বুঝানোর জন্য নাজিল করা হয়েছে। যারা নেকি ও বদ, পাপ এবং পূণ্যকে অবিশ্বাস করে তাদের শাস্তির বিষয়টিও ওঠে এসেছে এ সুরায়।
সুরা লাইল : আয়াত ২১
মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমাণ আনা; তাঁর সন্তুষ্টিতে দান-খয়রাত করা; উদারতা ও মহানুভবতার গুণ অর্জন করার ইঙ্গিত প্রদান। পাশাপাশি কুফর ও শিরকে লিপ্ত হওয়া, অহংকার ও কার্পণ্য করা, মানুষের হক বিনষ্ট করায় রয়েছে পরকালীন জীবনের অবাধারিত শাস্তি।
সুরা দোহা : আয়াত ১১
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা দোহায় আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিবকে সান্ত্বনার জন্য নাজিল করেছেন।
সুরা আলাম নাশরাহ : আয়াত ৮
নবুয়তের পূর্বে বিশ্বনবি মক্কায় ব্যাপক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন; ইসলামের দাওয়াত দেয়ায় যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, সে জন্য মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় তাঁকে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে।
সুরা ত্বীন : আয়াত ৮
এ সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এ সুরায় মানুষের উৎপত্তি ও পরিণতির বিষয় আলোচিত হয়েছে।
সুরা আলাক্ব : আয়াত ১৯
মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় রয়েছে বিশ্বনবির প্রতি নাজিলকৃত প্রথম প্রত্যাদেশ। এ সুরার প্রথম ৫ আয়াত নাজিলের মাধ্যমে নবুয়তের সূচনা হয়েছিল। তাছাড়া এ সুরায় বিশ্বনবির বাইতুল্লায় নামাজ আদায়কালীন সময়ে আবু জেহেলের ধমকের বিষয়ও ওঠে এসেছে।
সুরা ক্বদর : আয়াত ৫
সুরাটির অবতীর্ণের স্থান নিয়ে মতভেদ থাকলেও এটিতে কুরআন মাজিদের মর্যাদা, মূল্য ও গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে। সুরাটির শুরুতেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আমিই এ কিতাব লাইলাতুল কদরে নাজিল করেছি। অর্থাৎ এটি মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বানানো কোনো কথা নয়। বরং তা মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নাজিলকৃত কিতাব।
আল্লাহ তাআলা বলেন, যে রাতে আমি এ কিতাব নাজিল করেছি, তা অনেক মর্যাদা ও সম্মানের রাত। পরের আয়াতে এ রাত কি? এবং এর মর্যাদা কত? তা সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন এভাবে- ‘এ রাত হাজার মাসের তুলনায় অধিক উত্তম।’ সুরাটির শেষভাগে মহান আ্ল্লাহ ঘোষণা দেন, ‘এ রাতে ফেরেশতা ও রূহ হজরত জিবরিল আলাইহিস সালাম আল্লাহর অনুমতিক্রমে সব রকমের আদেশ-নির্দেশ নিয়ে অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। আর সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত তা এক পরিপূর্ণ শান্তির রাত হয়ে থাকে।
লাইলাতুল কদর এমন এক রাত। যে রাতে অশুভ বা অকল্যাণকর কোনো বিষয়ের স্থান হতে পারে না। কেননা এ রাতে মানবতার কল্যাণেই আল্লাহ তাআলার সব ফয়সালা হয়ে থাকে। আর তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যদি কোনো জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ারও ফয়সালা হয় তবে তা অবশ্যই গোটা মানবতার কল্যাণের জন্যই হয়ে থাকে।
মর্যাদার এ রাতে ফেরেশতা ও রূহ দুনিয়ার সব মুমিন মুসলমানের ঘরে ঘরে আগমন করে প্রত্যেক নারী-পুরুষকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম ও শান্তির বাণী জ্ঞাপন করেন। আল্লাহ তাআলা সুরা কদরে এ কথাই ঘোষণা করেছেন এভাবে-
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে।
وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন?
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ
এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ
এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
সুরা বায়্যিনাহ : আয়াত ৮
এ সুরায় রাসুল প্রেরণের প্রয়োজনীয়তা ও আল্লাহ তাআলা নির্দেশ পালন এবং ইবাদত-বন্দেগিতে একনিষ্ঠ হওয়ার বিষয় আলোচিত হয়েছে।
সুরা যিলযাল : আয়াত ৮
মক্কায় অবতীর্ণ সুরায় কেয়ামত ও মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্ক আলোচনা করা হয়েছে। কেয়ামতের আগমনে কি ঘটনা ঘটবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।
সুরা আ’দিয়াত : আয়াত ১১
মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরাটিতে পরকালের প্রতি অবিশ্বাসের ভয়াবহ পরিণাম দুঃসংবাদের পাশাপাশি পরকালের বিচারের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণের দিক-নির্দেশনা আলোচিত হয়েছে।
সুরা ক্বারিয়াহ : আয়াত ১১
মক্কী সুরা ক্বারিয়া। এ সুরায় কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়া; পরকালের পুনরায় জীবিত হওয়া, দুনিয়ার জীবনের কৃতকর্মের হিসাব প্রদান এবং প্রতিদান গ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
সুরা তাকাছুর : আয়াত ৮
এ সুরাটিও মক্কায় অবতীর্ণ। এতে দুনিয়ার পুজা এবং বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মানুষকে আখিরাতপন্থী এবং পরকালমুখী করাই এ সুরার উদ্দেশ্য। মানুষের লোভ-লালসা ও অপুরণীয় চাহিদার কথাও ওঠে এসেছে এ সুরায়।
সুরা আসর : আয়াত ৩
অতিশয় ক্ষুদ্র সুরা অথচ ব্যাপক অর্থবোধক। এ সুরায় মানুষের জীবনের নীতি-আদর্শ ও কর্ম কেমন হওয়া উচিত তা তুলে ধরেছেন।
সুরা হুমাযাহ : আয়াত ৯
এ সুরায় ইসলাম পূর্ব জাহেলী সমাজের অর্থ পুজারি ধনী সম্প্রদায়ের মধ্যে কতগুলো মারাত্মক ধরনের নৈতিক ত্রুটি ও দোষ বিদ্যমান ছিল তা তুলে ধরা হয়েছে।
সুরা ফিল : আয়াত ৫
মক্কায় অবর্তীণ এ ঐতিহাসকি সুরা। যেখানে বাইতুল্লাহকে ধ্বংসে আবরাহার বিশাল হস্তি বাহিনীর আলোচনা হয়েছে। আবার হস্তিবাহিনীকে ধ্বংসে আল্লাহর সিদ্ধান্ত আলোচিত হয়েছে এ সুরায়।
সুরা কুরাইশ : আয়াত ৪
এ সুরায় শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা ইবাদতের দাওয়াত দেয়ার জন্য নাজিল হয়েছে। এ সুরায় মহান আল্লাহ এমনভাবে ইবাদতের নির্দেশ দিয়েছেন যে, বাইতুল্লাহ দেখিয়ে মহান আল্লাহ বলছেন, ‘অতএব তোমরা এই ঘরের (কাবা শরিফের) মালিকের ইবাদত কর।’
সুরা মাউন : আয়াত ৭
পরকালে অবিশ্বাসীদের চরিত্র কতটা নিচু সে চরিত্র চিত্রায়ন করা হয়েছে এ সুরায়। আবার যারা নামাজে অলস তাদের পরিণতি এবং লোক দেখানো ইবাদত-বন্দেগির প্রতি আকৃষ্ট তাদের সম্পর্কে আলোচিত হয়েছে এ সুরায়।
সুরা কাউসার : আয়াত ৩
বিশ্বনরি প্রতি অজস্র নিয়ামতের বর্ণনা লুকায়িত আছে এ সুরায়। আবার এ সুরায় আল্লাহর জন্য নামাজ ও কুরবানির নির্দেশসহ বিশ্বনবির দুশমনদের নির্বংশ বলেও বর্ণিত হয়েছে।
সুরা কাফিরুন : আয়াত ৬
এ সুরায় তাওহিদের শিক্ষা এবং মুশরিকদের বিরুদ্ধাচরণের ঘোষণা হয়েছে। প্রত্যেকের ধর্মমত আলোচিত হয়েছে এ সুরায়। তবে মুমিন মুসলমান শুধু আল্লাহর ইবাদত করে অন্য কারো ইবাদত করে না এ মর্মে একাধিকবার ঘোষণা এসেছে এ সুরায়।
সুরা নছর : আয়াত ৩
আরবের বুকে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুসংবাদ এবং পৌত্তলিকতাকে চিরতরে নির্বাসনে পাঠানোর শুভ সংকেত হলো এ সুরা। ক্ষমা প্রার্থনা ও তাসবিহর নির্দেশও রয়েছে এ সুরায়।
সুরা লাহাব : আয়াত ৫
ইসলামের দুশমনদের কারো নাম উচ্চারণ করে কোনো সুরা অবতীর্ণ হয়নি। ব্যতিক্রম শুধু আবু লাহাব ও তার স্ত্রী। এ সুরায় তার এবং তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে নাজিল করা হয়েছে। তারা বিশ্বনবির দাওয়াতি মিশনের বিরোধিতায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছিল।
সুরা ইখলাস : আয়াত ৪
এ সুরাটিতে আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর পরিচয়ের বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক ফজিলতপূর্ণ সুরা এটি। কোনো ব্যক্তির অনিষ্টতা থেকে মুক্তির জন্য এ সুরার আমলই যথেষ্ট।
সুরা ফালাক্ব ও নাস : আয়াত যথাক্রমে ৫ ও ৬
এ সুরা দুটিতে আরবের জাহেলি সমাজের নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বের প্রেক্ষাপট এবং তারা আল্লাহকে একেবারে ভুলে গিয়েছিল। আল্লাহর সম্মুখে নানা প্রতিকৃতি সমাসীন করেছিল। এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতে বিশ্বনরি ইসলামের দাওয়াত শুরু করেন। সে সময় অবিশ্বাসী কাফের সকল অপচেষ্টায় ইসলামের অগ্রযাত্রা যখন ছুটে চলছিল তখন এ সুরাদ্বয়ের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সাহায্য ও তাঁর স্মরণাপন্ন হওয়ার নির্দেশ ছিল।
সৃষ্টিকুলের যাবতীয় অনিষ্ট হতে মুক্ত হতেই বিশ্বনবি এ সুরাদ্বয় দিয়ে সাহায্য কামনা করতেন।আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলো বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Check Also

আলেমদের অপকর্ম হলে ধর্মের জন্যই শুভকর নয়: শামীম ওসমান

আলেমদের দ্বারা কোনো অপকর্ম হলে সেটা শুধু ইসলাম ধর্ম নয়, কোনো ধর্মের জন্যই শুভকর নয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
www.jagrotojanata.com want to
Show notifications for the latest News&Updates