জ্যোতির্বিদ জ্যোতিকা জ্যোতি!

জ্যোতির্বিদ জ্যোতিকা জ্যোতি!

বাঙালি নারীশক্তির ইতিহাসে অনন্য নাম খনা। জ্যোতির্বিদ হিসেবে পরিচিত এই নারীর আসল নাম লীলাবতী। যার বচন বা কথার ওপর ভিত্তি করে চলতো প্রাচীন বাংলার কৃষি ও সমাজ। ‘খনার বচন’ এই নারীর কথা থেকেই প্রলিত হয়েছে। যার প্রভাব রয়েছে চলমান সময়েও।

কাকতাল নয়, অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি ইচ্ছেকরেই বেছে নিয়েছেন খনা নামটি। হতে চাইছেন কৃষক, কৃষিপণ্য ও ভোক্তাদের কাছে আধুনিক জ্যোতির্বিদ! তাই প্রাচীন বাংলার সেই মহীয়সী নারীর নামেই নিজের কৃষি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেছেন জ্যোতি- খনা অর্গানিক।

জ্যোতির্বিদের সুরে জ্যোতিকা বলছেন, কৃষক ও ভোক্তাদের বাঁচাতে তার এই প্রাতিষ্ঠানিক যুদ্ধ। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে খাঁটি স্বপ্ন ভোক্তাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই এখন অভিনেত্রী জ্যোতির জীবনের মূল ব্রত।

সেই বার্তা দিয়ে পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) উন্মোচন করলেন প্রতিষ্ঠানটির লগো। যাতে স্থান পেয়েছে বিপ্লবের লাল আর কৃষকের লাঙল। জ্যোতির মতে, ‘সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের কৃষক। কৃষকের হাতের লাঙল কৃষিনির্ভর বাংলার একান্ত অনুষঙ্গ। খনা অর্গানিক যেহেতু শুধুমাত্র দেশীয় শস্য-পণ্য-মাছ-মাংস নিয়ে কাজ করছে, তাই বাংলার সকল কৃষকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিষ্ঠানের লগোতে লাঙলের ফলা যুক্ত করেছি। রেখেছি বিপ্লবের লাল রঙ।’

করোনা মহামারির শুরুর দিকে মানুষের সঠিক স্বাস্থ্যসেবার কথা ভেবে রাসায়নিক ও বিষমুক্ত খাদ্যপণ্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে খনা অর্গানিকের শুরু করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘মায়া’খ্যাত এই অভিনেত্রী। তবে সেটা ছিলো পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। জ্যোতির ভাষায়, ‘আমি তো জানতাম না কাজটি করতে গেলে কতোটা বাধা আসবে অথবা কেমন উৎসাহ পাবো। এক বছরে আশাতীত ভোক্তা ও কৃষক সমর্থন পেয়েছি। এরজন্য আমার পরিশ্রম আর একাগ্রতাও ছিলো। এখন আমি অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী। তাই পহেলা বৈশাখে লগো উন্মোচনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা করলাম। এবার আর পেছন ফেরার সুযোগ থাকছে না।’

কৃষিকাজ ও খামার তৈরিতে ব্যস্ত জ্যোতি
জ্যোতিকা জ্যোতির সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই সেটি স্পষ্ট হবে- তিনি তার খনা নিয়ে কতোটা সিরিয়াস। সারাক্ষণ লেগে থাকছেন মাটি ও কৃষির সঙ্গে। রাজধানীর চাকচিক্যময় গ্ল্যামার দুনিয়া ফেলে অনেকটা নিয়মিত হলেন ময়মনসিংহে জন্মগ্রামে। তাই নয়, যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটিতে। এটুকু স্পষ্ট, জ্যোতি নতুনকরে হাঁটছেন কৃষকের হয়ে ভোক্তাদের মুখে সুখাদ্য তুলে দেওয়ার নতুন বিপ্লবে।

খনা অর্গানিকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যোতিকা জ্যোতি কি তবে ক্রমশ মুছে ফেলছেন তার অভিনয়সত্তা? ‘জীবনঢুলি’, ‘মায়া’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ কিংবা ‘আয়না’র মতো চলচ্চিত্রসহ অসংখ্য টিভি নাটকে মুগ্ধতা ছড়ালেন যিনি- তার এমন প্রস্থান কেন! এই মুগ্ধতা ছড়ানোর পেছনেও রয়েছে ময়মনসিংহ টু ঢাকা যাত্রায় জ্যোতিকা জ্যোতির দীর্ঘ বিপ্লব। তাহলে মাঝপথে কেন আবার ফিরে যাওয়া পেছনে!

জ্যোতি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেখুন আমি মোটেও পেছনে যাচ্ছি না। বরং মূলে যেতে চাইছি। এটাও তো ঠিক, সামনে লাফ দিতে গেলে একটু পিছিয়ে নিতে হয় নিজেকে। ফলে আমি সঠিক পথেই আছি। খনা ইস্যুতে আমি অনেক সিরিয়াস। এটি সফল হলে আমার অভিনয়ের রাস্তা আরও সুন্দর হবে। আমি বড় বড় সিনেমা নির্মাণ করবো খনা থেকে।’

জ্যোতির খনা অর্গানিকে মিলছে দেশের প্রায় সক রকমের খাঁটি শস্য, ফল, তেল, মাছ-মাংস প্রভৃতি। সেই লক্ষ্যে এরমধ্যে তিনি গ্রামে গড়ে তুলেছেন বেশ ক’টি খামার, ফলের বাগান এবং মাছ ধরার জন্য লিজ নিয়েছেন আস্ত একটা নদী!

কলকাতার ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ সিনেমায় জ্যোতিকা জ্যোতি

Check Also

ভক্তদের মধুর বিড়ম্বনায় শুটিং করতে গিয়ে পলাশ

‌‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিক নাটকে ‘কাবিলা’ চরিত্র দিয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ। পরিচালক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
www.jagrotojanata.com want to
Show notifications for the latest News&Updates