জয়পুরহাটে অক্সিজেন সেবায় একদল তরুণ

এই তো সপ্তাহখানেক আগের কথা। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা সদরের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক করোনার উপসর্গসহ শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচ্ছিলেন না, কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। তখন রোগীর একজন স্বজন জয়পুরিয়ান ট্রাস্টের ফেসবুক গ্রুপে সহায়তা চেয়ে পোস্ট লেখেন। সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপটির পক্ষ থেকে কয়েকজন তরুণ অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হন শিক্ষকের বাড়িতে।

এই তরুণেরা যেমন গেলেন কালাই উপজেলায়, তেমনি জয়পুরিয়ান ট্রাস্টের সদস্যরা যে কারও প্রয়োজনে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যান গোটা জয়পুরহাট জেলায়। বিনা মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ সেবা ছাড়াও কোনো রোগীর প্লাজমা বা রক্তের প্রয়োজন হলেও ছুটে যান তাঁরা।

দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উদ্যোগের নাম ‘জয়পুরিয়ান ট্রাস্ট ফ্রি অক্সিজেন সার্ভিস’। এটি পরিচালনা করছে জয়পুরহাট জেলার তরুণদের সংগঠন ‘জয়পুরিয়ান ট্রাস্ট’। জয়পুরিয়ান ট্রাস্টের সদস্যসংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই। অক্সিজেন সেবা কার্যক্রমে সরাসরি কাজ করছেন ৬০ জন।

জয়পুরিয়ান ট্রাস্টের প্রধান সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান। তিনি জানান, গত বছর দেশে করোনার সংক্রমণ ও সাধারণ ছুটি শুরু হলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছেন জয়পুরহাটের এমন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠন করা হয় জয়পুরিয়ান ট্রাস্ট। জয়পুরহাট জেলার যাঁরা কর্মহীন হয়েছিলেন, তাঁদের খাদ্যসহায়তা দেয় এ ট্রাস্ট। এ ছাড়া মাস্ক বিতরণসহ সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রমে অংশ নেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা।

জয়পুরিয়ান ট্রাস্টের যৌথ সমন্বয়ক এ বি এম ইমরুল হাসান। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে আমরা আবার কাজ শুরু করি। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অনেকে অক্সিজেন–স্বল্পতায় শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। যাঁরা আমাদের সহায়তা চেয়েছেন এমন রোগীদের বাড়িতে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছি। এ জন্য আমাদের সক্রিয় ৬০ জন সদস্য নিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচ উপজেলায় আলাদা কমিটিও করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই দায়িত্ব পালন করছেন।’

এ তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
www.jagrotojanata.com want to
Show notifications for the latest News&Updates